#নববর্ষ_এবং_তুমি
ঘড়ির দিকে তাকাতেই জান্নাত আতকে উঠলো,ইশ ২ টা বেজে গেছে,আরেকটু পরেই ইশজান চলে আসবে।তাড়াতারি সবকিছু গোছাতে থাকে।
আজ ইশজান জান্নাত এর বিবাহের পর প্রথম নববর্ষ।দু মাশ হলো ওরা ভালোবেসে
বিয়ে করেছে।ফ্যামিলি এখনো মেনে নেয়নি।আর ইশজান ও স্বল্প বেতনের একটা চাকরি
করে।যা বেতন পায়,তাতে দুজনের ই জন্যই খরচ হয়ে যায়।আর অল্প কিছু
বাচে,জান্নাত সেটা জমিয়ে রাখে,তাই ইচ্ছা থাকা সত্যেও কোথাও যাও্যা হয়নি।এ ক
দিনে ঘুরতে যায়নি কোথাও ওরা,নববর্ষে ঘুরবে বলে।ইশজান এ মাসে বেতন পেয়ে
জান্নাত এর জন্য একটা লাল পাড়ের শাড়ি ও নিজের জন্য একটা গাড়ো লাল পাঞ্জাবি
কিনে এনেছে।জান্নাত ও কিছু টাকা জমিয়ে রেখেছিলো আজকের দিনটির জন্য।
জান্নাত কে আজ খুব সুন্দর লাগছে।খুব সুন্দর বললে বোধহয় ভুল হবে,অসাধারণ
লাগছে আজ জান্নাত কে।সিম্পল সাজ,তবুও সুন্দর লাগছে,শাড়ি পরেছে,আর চোখে
কাজল।চোখে কাজল দেওয়াটা ইশজানের অনেক পছন্দের।জান্নাতের এখনো মনে পরে,বিয়ের
আগে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্রগ্রাম থাকলে ইশজান ফোন করে বলতো “এই কাজল পরতে
ভুলোনা কিন্তু”
ইশজান আসার সময় হয়ে এসেছে,একটু পরেই দরজায় শব্দ
হলো।জান্নাত দরজা খুলে দেখলো ইশজান এসেছে।ইশজান কে দেখে জান্নাত একটু অবাক
হলো,কেমন যেন স্টাচুর মত তাকিয়ে আছে জান্নাত এর দিকে,............
এই কি দেখো?এভাবে হা করে তাকিয়ে আছ কেন?
হুম, না কিছু না,
এসো ঘরে এসো,
তোমাকে অসাধারন সুন্দর লাগছে,
(লাজুক হাসি দিয়ে)হুম জানি,দেরি হয়ে যাচ্ছে,তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নাও...
ইশজান কিছুক্ষণের মধ্যে ফ্রেশ হয়ে রেডি হয়ে নিলো।আজ দুজন কে দারুন
লাগছে।রিক্সায় করে সারাদিন ঘুরলো ওরা,ফুসকা খেলো,ছবি তুললো।ইশজান ও জান্নাত
এই দিনটির জন্য অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলো।আজ ইশজান অনেক বেশী হ্যাপি
জান্নাত এর মতো একজন কে জীবনসাথি হিসাবে পেয়ে।জান্নাত ও মনে মনে তাই ভাবছে।
সারাদিন ঘুরে সন্ধায় একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলো ওরা।জানলার পাশের টেবিল টা
আগে থেকেই বুক করে রেখেছিলো ইশজান।রেস্টুরেন্টে ঢুকে ওয়েটার কে ডেকে ১১ টা
মোমবাতি নিয়ে আনলো।দুজন মিলে ডিনার করলো।একে ওপর কে খাইয়ে দিলো।
জান্নাতের মনে হচ্ছে এ দুনিয়ার সবথেকে সুখি মেয়ে জান্নাত।জীবনটা যে এত টা
সুখি হতে পারে কখনো ভাবেনি।জান্নাত মনে মনে ভাবছে টাকা হলেই জীবনে সুখ
আসেনা,সুখে থাকার জন্য দুটি সুন্দর মনের প্রয়োজন।আর প্রয়োজন একে ওপরের
প্রতি সীমাহীন ভালোবাসা।তাহলে টিনের চালের ঘরের নিচে ও সুখে থাকা যায়,যেটা ৫
তলা বাড়ির ছাদের নিচে ও পাওয়া যায় না।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
এই ইশজান উঠ,আর..........
কতো ঘুমাবি,কত বেলা হয়ে গেলো।রুমমেটের ডাকে ঘুম ভাংগে ইশজানের,বালিশের
উপর হাত দিয়ে দেখে হালকা ভিজে গেছে,বালিশ ভিজার কারন টা ইশজান জানে।জান্নাত
কে নিয়ে স্বপ্ন টা স্বপ্ন হিসাবেই থেকে যায়।গত ৬ বছর ধরে স্বপ্নটা লালন
করে আসছে।আজ ইশজান জান্নাত থেকে অনেক দুরে,
সেই মালোয়শিয়া...
সব
দিক থেকেই দুরে।ইশজান জানেনা আজ ও কেন স্বপ্নটা লালন করে আসছে।কিছু
আশা,কিছু স্বপ্ন,কিছু ভালোবাসা আছে যা কোন কারন ছাড়াই দিনের পর দিন মনের
কুঠিরে বসত করে থেকে।ইসজান তাই মনে মনে ভাবে সবাই তো পেয়েই ভালোবাসে,আমি না
হয় না পেয়েই ভালোবাসলাম।
কিছু ভালোবাসা না পাওয়াই থেকে যায়।